মহরম কত তারিখে ২০২৫ - আশুরা কত তারিখ

মহরম কত তারিখে ২০২৫-আশুরা কত তারিখ বাংলাদেশে মহরম ও আশুরা কবে পালিত হবে, ১০ মহরমের সম্ভাব্য তারিখ, আশুরার রোজার ফজিলত, গুরুত্বপূর্ণ আমল এবং মহরম মাসে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজ ভাষায় জেনে নিন।

মহরম-কত-তারিখে-২০২৫ - আশুরা-কত-তারিখ

মহরম ২০২৫ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজই জেনে নিন সঠিক তারিখ এবং আশুরার রোজার নিয়ম, মহরম মাসের ফজিলত, কারবালার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক তথ্য একসঙ্গে পড়ে নিন।

পেজসূচিপত্রঃ মহরম ২০২৫ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য এক নজরে

মহরম কত তারিখে ২০২৫

মহরম কত তারিখে ২০২৫-আশুরা কত তারিখ বাংলাদেশে ১ মহরম ১৪৪৭ হিজরী সম্ভাব্য ২৭ জুন ২০২৫ শুক্রবার, যা ১৩ আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ এর সঙ্গে মিলে। আর ১০ মহরম আশুরা সম্ভাব্য ৬ জুলাই ২০২৫ রবিবার, যা ২২ আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। তবে ইসলামিক মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল হওয়ায় চূড়ান্ত তারিখ দুই এক দিন এদিক ওদিক হতে পারে। আশুরা ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে এবং মুসলমানেরা বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি পালন করেন। তাই সরকারি ঘোষণা ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে করাই সবচেয়ে নির্ভুল উপায়।

মহরম ইসলামী হিজরী বছরের প্রথম মাস এবং এটি চারটি সম্মানিত মাসের একটি। এই মাসের আগমনের সঙ্গে নতুন হিজরী বছরের সূচনা হয়। আশুরার দিনটি শুধু একটি ঐতিহাসিক দিনের স্মৃতি নয়, বরং ইবাদত, সমালোচনা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাই মহরমের সঠিক তারিখ জানার পাশাপাশি এই মাসের গুরুত্ব, ফজিলত ও করণীয় আমল সম্পর্কেও জানা উচিত। মুসলমানদের জন্য এই মাস আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মূল্যবান সময়।

মহরম মাসের পরিচয়, গুরুত্ব ও মর্যাদা

মহরম কত তারিখে ২০২৫-আশুরা কত তারিখ মহরম ইসলামী হিজরী সালের প্রথম মাস এবং ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের একটি। এই মাসের  আগমনের মাধ্যমে হিজরী বছরের সূচনা হয়। পবিত্র কুরআনে হারাম মাসগুলোর সম্মান রক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই মহরম মাসে বেশি বেশি ইবাদত, নফল আমল এবং আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করা উত্তম। এই মাস শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নিকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই মুসলমানদের উচিত মহরম মাসের মর্যাদা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

মহরম মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো ১০ মহরম যা আশুরা নামে পরিচিত। এই দিনকে কেন্দ্র করে ইসলামের ইতিহাসে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা রয়েছে। বিশেষ করে আশুরার রোজা রাখার ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাও এই মাসের সঙ্গে জড়িত, যা মুসলমানদের সত্য, ন্যায় এবং ত্যাগের শিক্ষা দেয়। এই মহরম মাসকে শুধু একটি ঐতিহাসিক মাস হিসেবে নয়, বরং এবাদত, শিক্ষা ও আত্মসংযোগের মাস হিসেবেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

মহরম মাসের ফজিলত ও বিশেষ আমল

মহরম কত তারিখে ২০২৫-আশুরা কত তারিখ মহরম আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস। হাদিসে এই মাসে আল্লাহর মাস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মাসে বেশি বেশি নফল ইবাদত, তওবা, ইস্তেগফার, কুরআন তিলাওয়াত ও দান সদকা করা উত্তম। বিশেষ করে আশুরার রোজা রাখার অনেক ফজিলত রয়েছে। তাই মহরম মাসকে অবহেলা না করে আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নেক আমলে ব্যস্ত থাকা উচিত। এই পবিত্র মাসে ইবাদত তওবা, ইস্তেগফার ও সৎকাজে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া একজন মুসলিমের জন্য উত্তম।

মহরম মাসে শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনের ইবাদত নয়, পুরো মাসজুড়েই আল্লাহ স্মরণে থাকার চেষ্টা করা উচিত। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, দরিদ্র মানুষকে সাহায্য, আত্মীয়তার সম্পর্কে বজায় রাখা এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। সেই সঙ্গে অহংকার, ঝগড়া বিবাদ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। মহররমের শিক্ষা হলো আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর পথে দৃঢ়ভাবে অটল থাকা।

আরো পড়ুনঃ কুরবানির মাংস কয় ভাগে ভাগ করতে হয়-ইসলামিক নিয়ম

আশুরা দিবসের গুরুত্ব, ফজিলত ও তাৎপর্য

আশুরা হলো মহরম মাসের ১০ম দিন, যা ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। সহিহ হাদিসে বর্ণিত রয়েছে রাসূল (সাঃ) আশুরা রোজা রাখতেন এবং সাহাবীদেরও এই রোজা রাখতে উৎসাহিত করতেন। তিনি বলেছেন আশুরা রোজা রাখলে আল্লাহতালা পরবর্তী এক বছরের ছগিরা গুনাহ ক্ষমা করেন এমন আশা করা যায়। এছাড়া রাসুল (সাঃ) ইহুদীদের থেকে ভিন্নতা বজায় রাখতে ৯ ও ১০ মহরম অথবা ১০ ও ১১ মহরম রোজা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাই আশুরার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রোজা রাখা। এর পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করা এবং বেশি বেশি কোরআন তিওলায়াত, জিকির, তওবা ও ইস্তেগফার করা।

মহরম-কত-তারিখে-২০২৫ - আশুরা-কত-তারিখ

আশুরা দিবস মুসলমানদের জন্য শিক্ষা, ধৈর্য ও আল্লাহর আনুগত্যের অন্যান্য স্মারক। এই দিনে কারবালার প্রান্তে ইমাম হুসাইন (রাঃ) ও তার সঙ্গীরা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য শাহাদাত বরণ করেন যা ইসলামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। তাই কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত আমল গুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একজন মুসলমানের মুসলিমের জন্য এই দিনের মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর আনুগত্য অটল থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকা, বেশি বেশি ইবাদত করা এবং আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও হেদায়েত প্রার্থনা করা।

আশুরা রোজার ফজিলত ও নিয়ম

আশুরার রোজা ইসলামের একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল ইবাদত। সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে রাসুল (সাঃ) আশুরা রোজা রাখতেন এবং সাহাবীদের এই রোজা পালনের জন্য উৎসাহিত করতেন। তিনি বলেছেন আল্লাহ তালার কাছে আশা করা যায় যে আশুরার রোজার মাধ্যমে পরবর্তী এক বছরের ছগিরা গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এই কারণে বিশ্বের অসংখ্য মুসলমান প্রতিবছর এই রোজা পালন করেন। তবে মনে রাখতে হবে এটি ফরজ রোজা নয় বরং সুন্নাত ও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল ইবাদত। তাই আন্তরিক নিয়ত, তাকওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির অর্জনের উদ্দেশ্যে এই রোজা পালন করা উচিত।

আশুরা রোজা পালনের নিয়ম সম্পর্কে হাদিসের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা এসেছে। রাসূল (সাঃ) ইহুদীদের থেকে ভিন্নতার বজায় রাখার জন্য শুধু ১০ মহরম নয়, এর সঙ্গে ৯ মহরম অথবা ১১ মহরম মিলিয়ে রোজা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাই অধিকাংশ আলেম ৯ ও ১০ মহরম একসঙ্গে রোজা রাখাকে উত্তম বলেছেন। যদি কোনো কারণে ৯ তারিখে রোজা রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে ১০ ও ১১ মহরম রোজা রাখা যেতে পারে। তবে শুধু ১০ মহরম রোজা রাখলেও আশুরার রোজা আদায় হয়ে যায় বলে অনেক আলেম মত প্রকাশ করেছেন।

৯ ও ১০ মহরমের রোজার বিধান

ইসলামে আশুরা বোঝার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সহিহ হাদিসের বর্ণিত হয়েছে রাসুল (সাঃ) আশুরার রোজা রাখতে এবং সাহাবীদেরও উৎসাহিত করতেন। পরবর্তীতে তিনি ইহুদিদের থেকে ভিন্নতা বজায় রাখার জন্য ৯ মহরমের রোজাও রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই কারণে অধিকাংশ আলেম ৯ ও ১০ মহরম একসঙ্গে রোজা রাখাকে উত্তম বলেছেন। এতে সুন্নাহ অনুসরণ করা হয় এবং রোজার ফজিলত ও অর্জিত হয়। যারা আল্লাহর সন্তুষ্ট লাভ করতে চান, তারা এই দুইদিন রোজা রাখার চেষ্টা করতে পারেন। এটি একজন মুমিনের ঈমান, তাকওয়া ও সুন্নতের প্রতি ভালোবাসারও পরিচয় বহন করে।

কোনো কারণে ৯ মহরমের রোজা রাখা সম্ভব না হলে ১০ ও ১১ মহরম রোজা রাখার কথাও অনেক আলেম উল্লেখ করেছেন। আর যদি সেটিও সম্ভব না হয় তাহলে শুধু ১০ মহরম রোজা রাখলেও আশুরা রোজা আদায় হয়ে যায় বলে বহু আলেম মত দিয়েছেন। তবে উত্তম হলো সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী দুই দিন রোজা রাখা। রোজার পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, ইস্তেগফার, জিকির, দান ছদকা এবং আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। 

আরো পড়ুনঃ কোন কোন পশু কুরবানী দেওয়া যাবে না-সম্পূর্ণ গাইড

কারবালার ঘটনার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও শিক্ষা

মহরম কত তারিখে ২০২৫-আশুরার কত তারিখ ইসলামের ইতিহাসের কারবালার ঘটনা একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক অধ্যায়। হিজরী ৬১ সালের ১০ মহরম ইরাকের কারবালার প্রান্তরে রাসুল (সাঃ) এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রাঃ)  তার অল্প সংখ্যক সঙ্গী সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থেকে শাহাদাত বরণ করেন। এই ঘটনা মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছে। কারবালার শিক্ষা শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি নয়, বরং অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা, সত্যের পক্ষে দৃঢ় থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অন্যান্য দৃষ্টান্ত।

কারবালার ঘটনা মুসলমানদের ধৈর্য, ত্যাগ, সাহস এবং ঈমানের দৃঢ় শিক্ষা দেয়। ইমাম হোসাইন (রাঃ) কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেনি বরং সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। কারবালার এই ঐতিহাসিক ঘটনা ধৈর্য, ত্যাগ  ঈমানের দৃঢ়তা এবং সত্যের পক্ষে অটল থাকার অন্যান্য দৃষ্টান্ত। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আল্লাহর আনুগত্যে জীবন পরিচালনা করা। উত্তম চরিত্র গঠন করা এবং বেশি বেশি নেক আমল, দোয়া ও তাওবা, এস্তেগফারে মনোযোগী হওয়া।

কারবালায় ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর শাহাদতের ঘটনা

মহরম কত তারিখে ২০২৫-আশুরা কত তারিখ ইমাম হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। হোসাইন ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নাতি। হিজরী ৬১ সালে কারবালার প্রান্তে তিনি তার বিশ্বস্ত সঙ্গীদের অনেকেই শাহাদাত বরণ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এই শাহাদত সত্য, ন্যায়, ধৈর্য্য ও আত্মত্যাগের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয়। ইমাম হোসাইন (রাঃ) অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ না করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মৃত্যুবরণ করেন। তার এই ত্যাগ মুসলিম উম্মাহকে যুগে যুগে সত্যের পথে অটল থাকার অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছে।

শাহাদাতের ঘটনা মুসলমানদের জন্য গভীর শিক্ষা বহন করে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ঈমান ও সত্যের প্রশ্নে কোকো আপস করা উচিত নয়। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। বরং তার জীবন থেকে ধৈর্য, তাকওয়া, ন্যায়পরায়ণতা এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থার শিক্ষা গ্রহণ করাই প্রকৃত অনুসরণ। তাঁর আত্মত্যাগ মুসলিম ইতিহাসের চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রামের অন্যান্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

মহরম মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল ও ইবাদত

মহরম কত তারিখে ২০২৫-আশুরা কত তারিখ মহরম হিজরী বছরের প্রথম মাস এবং ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের একটি। তাই এ মাসে আল্লাহর ইবাদতে বেশি মনোযোগ দেওয়া একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময় মতো আদায়, বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, ইস্তেগফার, জিকির এবং দান ছদকা করা এই মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল গুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে ৯ ও ১০ মহরম অথবা ১০ ও ১১ মহরম রোজা রাখা সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ আমল। পাশাপাশি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, মানুষের উপকার করা এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করাও এই মাসের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মধ্যে পড়ে।

মহরম-কত-তারিখে-২০২৫ - আশুরা-কত-তারিখ

মহরম মাসে কোনো নতুন বা ভিত্তিহীন ইবাদত চালু করার পরিবর্তে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত আমলগুলো নিয়মিত পালন করা করাই সবচেয়ে উত্তম। প্রতিদিন কিছু সময় কোরআন তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির, দরিদ শরীফ পাঠ, আন্তরিকভাবে দোয়া এবং নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ নেওয়া এবং উত্তম চরিত্র গঠনের চেষ্টা করা একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা এভাবেই মহরম মাসের প্রকৃত বরকত ও ফজিলত অর্জন করা সম্ভব।

আরো পড়ুনঃ মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী দেওয়া যাবে কি-ইসলাম অনুযায়ী

মহরম মাসে বর্জনীয় কাজ ও সতর্কতা

মহরম কত তারিখে ২০২৫-আশুরা কত তারিখ জানতে অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মহরম মাস সম্মানিত মাস হওয়ায় সব ধরনের হারাম কাজ থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি। মিথ্যা বলা, গীবত, পরনিন্দা, ঝগড়া বিবাদ, মানুষের অধিকার নষ্ট করা এবং আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। একই সঙ্গে মহরমকে কেন্দ্র করে সমাজে প্রচারিত এমন কোনো রীতি বা কুসংস্কার অনুসরণ করা উচিত নয়, যার ভিত্তি কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ মতে নেই। একজন মুসলমানের উচিত ধর্মীয় বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমদের পরামর্শ গ্রহণ করা এবং সহিহ দলিলের আলোকে আমল করা।

মহরম উপলক্ষে অতিরঞ্জিত শোক প্রকাশ, শরীরকে আঘাত করা বা ইসলামে প্রমাণিত নয় এমন বিশেষ অনুষ্ঠানকে ধর্মীয় ইবাদত বলে মনে করা থেকে বিরত থাকা উচিত। ইসলাম সবসময় ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ও সহিহ আমলের শিক্ষা দেয়। তাই এই মাসে বেশি বেশি নফল ইবাদত, তাওবা, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত এবং মানুষের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখায় উত্তম। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই মহরম মাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা। 

বাংলাদেশ মহরমের সরকারি ছুটি ২০২৫

মহরম কত তারিখে ২০২৫-আশুরার কত তারিখ এই বিষয়ে জানতে অনেকে আগ্রহী হয়ে থাকেন। বাংলাদেশ আশুরা উপলক্ষে সাধারণত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে ছুটির সঠিক তারিখ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। কারণ ইসলামী মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল তাই প্রতি বছর মহরমের সরকারি ছুটির তারিখ কিছুটা পরবর্তীত হতে পারে। সরকারি গেটের প্রকাশের তারিখ নিশ্চিতভাবে জানা যায়। যারা চাকরি, ব্যবসা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, তাদের উচিত সরকারি ঘোষণার দিকে নজর রাখা।

সরকারি ছুটি থাকলেও একজন মুসলিমের জন্য এই দিনের প্রকৃত গুরুত্ব ইবাদত ও নেক আমলের মধ্যে নিহত। তাই আশুরার দিনটি শুধু ছুটি হিসেবে না দেখে রোজা রাখা, কুরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে কাটানো উচিত। একই সঙ্গে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে মহরম মাসের গুরুত্ব ও আশুরার ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করলে ধর্মীয় জ্ঞানও বৃদ্ধি পায় এবং নতুন প্রজন্মও সঠিক শিক্ষা লাভ করে।

মহরম সম্পর্কে প্রচারিত ভুল ধারণা ও সত্য

মহরম কত তারিখ ২০২৫-আশুরা কত তারিখ এই বিষয়ে জানতে অনেকে আগ্রহী হয়ে থাকেন। মহররম মাসকে ঘিরে সমাজের নানা ধরনের ভুল ধারণা ও ভিত্তিহীন বিশ্বাস পরিচালিত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন এই মাসে বিয়ে করা, নতুন ব্যবসা শুরু করা বা নতুন কাজের সূচনা করা অশুভ। কিন্তু পুরানো সহীহ হাদিসে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং মহরম হলো আল্লাহর সম্মানিত মাস, যেখানে বেশি বেশি নেক আমল করার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তাই ধর্মীয় বিষয়ে লোকমুখে প্রচলিত কথার পরিবর্তে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর উপর নির্ভর করাই একজন মুমিনের জন্য উত্তম।

আরেকটি ভুল ধারণা হলো আশুরার দিনে এমন কিছু বিশেষ আমলকে বাধ্যতামূলক বা সুন্নত বলা যার কোনো সহিহ দলিল নেই। ইসলাম আমাদেরকে সহিহ প্রমাণের ভিত্তিতে আমল করার শিক্ষা দেয়। তাই এই মাসে কুসংস্কার, বিদআত ও অতিরঞ্জন থেকে দূরে থেকে রোজা, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, তওবা এবং দোয়ার মতো প্রমাণিত ইবাদতের প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিত। এভাবেই মহরম মাসের শিক্ষা অনুসরণ করা সম্ভব।

শেষকথাঃ মহরম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

মহরম কত তারিখে ২০২৫-আশুরা কত তারিখ মহরম সম্পর্কে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে। যেমন মহরম কবে শুরু হবে, আশুরা কত তারিখ, আশুরা রোজা কিভাবে রাখতে হবে, ৯ ও ১০ মহরম নাকি ১০ ও ১১ মহরম রোজা রাখা উত্তম। মহরমের ফজিলত কি এবং এই মাসে কোন আমলগুলো বেশি বেশি করা উচিত। এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানতে হলে কুরআন, সহিহ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য ইসলামিক আলেমদের ব্যাখ্যার উপর নির্ভর করা উচিত। কারণ ধর্মীয় বিষয়ে ভুল তথ্য অনুসরণ করলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

মহরম মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই এই মাসে সঠিক ইতিহাস, ফজিলত ও আমল সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য উপকারী। সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী আশুরার রোজা পালন, বেশি বেশি নফল ইবাদত, তওবা, জিকির, কোরআন তিলওয়াত এবং দোয়া করার মাধ্যমে এই মাসের বরকত লাভ করা যায়। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে মহরম মাসের প্রকৃত শিক্ষা অনুসরণ করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন আমীন।






 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

নাহার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Mst.Mahbunnahar
Mst.Mahbunnahar
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও নাহার আইটি এর এডমিন। আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি।
Facebook | Website