ফাংগাল একনি দূর করার ঘরোয়া উপায়
ফাংগাল একনি দূর করুন সহজে এই ঘরোয়া উপায়গুলো ব্যবহার করে। দই, মধু, হলুদ,
নারিকেল তেল এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের ব্রণ ও ফাংগাল কমাতে সাহায্য
করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক নরম, উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর থাকে।
সহজ ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনার ত্বককে সতেজ ও পরিষ্কার রাখুন। ত্বক পরিষ্কার, রাখা
সঠিক খাদ্যভাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানুসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা ফাংগাল একনি কমাতে
গুরুত্বপূর্ণ। আজই শুরু করুন এবং দেখুন প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বক কিভাবে ব্রণমুক্ত
হয়।
পেজসূচিপত্র: ফাংগাল একনি কি এবং কিভাবে সহজে দূর করবেন
- টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করে ফাংগাল দূর করা
- নিম পাতার পানি দিয়ে ফাংগাল একনি কমানো
- এলোভেরা জেল দিয়ে ফাংগাল একনি দূর করা
- অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করে দূর
- রসুনের প্রাকৃতিক ব্যবহার করে ফাংগাল একনি দূর
- দই ও মধুর ফেসপ্যাক ব্যবহার
- লেবুর রস দিয়ে ফাংগাল একনি কমানো
- হলুদের পেস্ট ব্যবহার করে একনি কমানো
- নারিকেল তেল দিয়ে ফাংগাল একনি দূর করা
- মুখ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস
- অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রন ও একনি কমানোর টিপস
- সঠিক খাদ্যভাস বজায় রাখা ও একনি নিয়ন্ত্রন
- শেষকথা: পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক কমানো
টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করে ফাংগাল দূর করা
ফাংগাল একনি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসাবে ট্রি টি অয়েল একটি অত্যন্ত কার্যকর
প্রাকৃতিক উপাদান। এতে শক্তিশালী এন্টিফাংগাল ও এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান
রয়েছে, যা ত্বকের ফাংগাল ধ্বংস করতে সাহায্য করে। ফাংগাল একনি মূলত ত্বকের
লোমকূপ জমে থাকা ছত্রাকের কারণে হয়, আর টি ট্রি অয়েল সেই ছত্রাকের বৃদ্ধি বন্ধ
করে দেয়। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে নতুন
ব্রণ উঠার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। ত্বকের লালচেভাব ও চুলকানি কমাতেও এটি
কার্যকর।
টি ট্রি অয়েল কখনোই সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এটি শক্তিশালী কয়েক
ফোঁটা টি ট্রি অয়েল নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা সবচেয়ে
নিরাপদ। রাতে ঘুমানোর আগে পরিষ্কার ত্বকে লাগালে ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রতিদিন
একবার ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে আগে পেস্ট টেস্ট করা
জরুরি। নিয়মিত ব্যবহার করলে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই উন্নতি দেখা যায়।
নিম পাতার পানি দিয়ে ফাংগাল একনি কমানো
ফাংগাল একনি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে নিম পাতার পানি বহু বছর ধরে প্রাকৃতিক
চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিম পাতায় থাকা এন্টিফাংগাল ও এন্টিসেপটিভ উপাদান
ত্বকের সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের গভীরে জমে থাকা জীবাণু পরিষ্কার
করে। ফাংগাল একনির কারনে যে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হয়, তা কমাতেও নিমপাতার
পানি কার্যকর। ত্বককে পরিষ্কার ও সতেজ রাখতে এর ভূমিকা অনেক।
১০-১৫টি তাজা নিমপাতা পানিতে ফুটিয়ে ভালোভাবে ঠান্ডা করে নিন। সেই পানি দিয়ে
দিনে একবার মুখ ধুতে পারেন। চাইলে তুলার সাহায্যে ব্রণের জায়গায় লাগানো যায়।
নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের তেলাভাব কমে এবং ব্রণের পরিমাণ হ্রাস পায়। নিমপাতার
পানি ত্বকের কালচে দাগ ও একনি দূর করে।এটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত একটি ঘরোয়া
সমাধান। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি করে না।
এলোভেরা জেল দিয়ে ফাংগাল একনি দূর করা
ফাংগাল একনি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে এলোভেরা জেল খুবই নিরাপদ এবং জনপ্রিয়।
এলোভেরা ত্বককে ঠান্ডা রাখে এবং ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। এতে থাকা
প্রাকৃতিক এন্টিফাঙ্গাল উপাদান সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। ত্বকে হওয়া লালচে ভাব
ও জ্বালা দ্রুত কমে যায়। ফাংগাল একনির কারণে হওয়া চুলকানি কমায়। এলোভেরা
ত্বককে ঠান্ডা অনুভুতি দেয়। ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ রাখে। নিয়মিত
ব্যবহারে ব্রণের প্রকোপ কমে। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এটি নিরাপদ। প্রাকৃতিকভাবে
ত্বক সুস্থ রাখতে সহায়ক।
খাঁটি এলোভেরা জেল সংগ্রহ করে মুখ পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার মুখে পাতলা করে জেল লাগান। ২০ থেকে ৩০ মিনিটে রেখে দিন। এরপর স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দিনে একবার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। রাতে ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। ত্বক ধীরে ধীরে মসৃণ হতে শুরু করে। একনির লাল দাগ কমে যায়। ত্বক সতেজ ও নরম অনুভূত হয়। নিয়মিত ব্যবহারে ফাংগাল একনি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আরো পড়ুন: প্রাকৃতিক ফেসপ্যাক ব্যবহার করে ব্রণ ও ফাঙ্গাল কমান
অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করে দূর
ফাংগাল একনি দূর করার উপায় হিসেবে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স
ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ফাঙ্গাস সাধারণত ক্ষারধর্মী পরিবেশের দ্রুত বাড়ে আর
ভিনেগার সেই পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। এতে শক্তিশালী অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান রয়েছে।
এটি ত্বকের ক্ষতিকর ফাংগাল ধ্বংস করে। অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ কমায়। একনির জীবাণু
রোধ করে। ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করে। নিয়মিত ব্যবহার একনি কমে। ত্বক ধীরে
ধীরে উজ্জ্বল হয়। ঘরোয়া চিকিৎসায় এটি বেশ জনপ্রিয়।
এক চামচ ভিনেগারের সাথে ২ চামচ পানি মেশান। কটন বল দিয়ে আক্রান্ত জায়গায়
লাগান। ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন ব্যবহার করুন। সরাসরি ভিনেগার ব্যবহার করা যাবে না।
সংবেদনশীল ত্বকে আগে প্যাচ টেস্ট করুন। অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। সঠিক
নিয়ম মানলে উপকার পাবেন। ফাংগাল একনি ধীরে ধীরে কমে যাবে।
রসুনের প্রাকৃতিক ব্যবহার করে ফাংগাল একনি দূর
ফাংগাল একনি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে রসুন একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক
এন্টিফাংগাল উপাদান। এতে থাকা অ্যালিসিন ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে
সাহায্য করে। ফাংগাল সংক্রমণ দ্রুত কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি ত্বকের
সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। একনির প্রদাহ ও ফোলা ভাব কমায়। ত্বকের ভেতরের জীবাণু দূর
করে। প্রাকৃতিক চিকিৎসায় রসুন বহুল ব্যবহৃত। দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে।
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ভালো ফল দেয়। নিয়মিত ব্যাবহারেেএকনি কমে যায়
এক কোয়া রসুন ভালোভাবে বেটে নিন। এর সাথে সামান্য পানি বা মধু মেশান। আক্রান্ত
জায়গায় অল্প পরিমাণে লাগান। ৫ মিনিটের বেশি রাখবেন না। এরপর পরিষ্কার পানি
দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করুন। সংবেদনশীল ত্বকে সতর্কতা
অবলম্বন করুন। জালা হলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলুন। সঠিক ব্যবহারের ত্বক পরিষ্কার
হয়। ফাংগাল একনি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রণের পরিমাণ
কমে যায়।
দই ও মধুর ফেসপ্যাক ব্যবহার
ফাংগাল একনি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে দই ও মধুর ত্বকের জন্য খুবই উপকারী ।
দইয়ে থাকা প্রবায়োটিক উপাদান ত্বকের ক্ষতিকর ফাঙ্গাস কমাতে সাহায্য করে। মধু
প্রাকৃতিক এন্টিফাঙ্গাল ও এন্টি ব্যাকটেরিয়াল হিসাবে কাজ করে। এই দুই উপাদান
একসাথে ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ থাকে। ফাংগাল একনির কারণে চুলকানি ও
লালভাব কমাতে এটি খুব উপকারী। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে
আসে। ত্বক নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর থাকে।
১ চামচ টক দই ও ১ চামচ খাঁটি মধু ভালোভাবে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। পরিষ্কার
মুখে সমানভাবে লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের
সংখ্যা কমে যায়। ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ দেখায়। প্রাকৃতিক হওয়ায় এটি
প্রতিক্রিয়া মুক্ত। দীর্ঘদিন ব্যবহারেও নিরাপদ। সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার নিশ্চিত
করুন।
আরো পড়ুন: ঘাম ও ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রেনের কার্যকর ঘরোয়া উপায়
লেবুর রস দিয়ে ফাংগাল একনি কমানো
ফাংগাল একনি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে লেবুর রস প্রাকৃতিক এন্টিফাংগাল হিসেবে
কাজ করে। এতে থাকা সিট্রিক এসিড ফাংগাল ধ্বংস করে। লেবুর রস ত্বকের অতিরিক্ত তেল
নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে নতুন ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা কমে। এটি লোমকূপ
পরিষ্কার রাখে। ফাংগাল একনির কারণে ত্বকের লালচে ভাব ও জ্বালা পোড়া কমে। নিয়মিত
ব্যবহারে ত্বক উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর থাকে। একনি সাধারণত তেলযুক্ত ত্বকে
বেশি হয় তাই লেবুর রস কার্যকর ভূমিকা রাখে।
লেবুর রস কখনোই সরাসরি ব্যবহার না করে পানির সাথে মিশিয়ে নেওয়া ভালো। তুলার
সাহায্যে আক্রান্ত স্থানে লাগান। ৫-১০ মিনিট পর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। সংবেদনশীল
ত্বকের ক্ষেত্রে ব্যবহার সীমিত রাখুন। সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করুন।
অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বক শুষ্ক করতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণ ধীরে ধীরে কমে।
ত্বকের টেক্সচার নরম হয় এবং দাগ হালকা হয়। প্রাকৃতিক হওয়ায়
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেকটা কম থাকে।
হলুদের পেস্ট ব্যবহার করে একনি কমানো
ফাংগাল একনি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে হলুদ বহু বছর ধরে প্রাকৃতিক চিকিৎসায়
ব্যবহৃত হচ্ছে। হলুদের কুরকুমিন উপাদান শক্তিশালী এন্টিফাংগাল হিসেবে কাজ করে।
এটি ত্বকের প্রদাহ ও সংক্রম কমাতে সাহায্য করে। ফাংগাল একনির কারণে হওয়া
দাগ ও কালচেভাব হালকা করে। সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা উচিত।
ত্বক নরম ও মসৃণ দেখায়। ফেসপ্যাক হিসেবে এটি সহজে ব্যবহারযোগ্য। এটি সব ধরনের
ত্বকের জন্য নিরাপদ।
হলুদ গুঁড়ো ও অ্যালোভেরা জেল বা মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পরিষ্কার ত্বকে
লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে হালকা করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করলে ভালো
ফল পাওয়া যায়। অতিরিক্ত ব্যবহার হলে ত্বকে হলুদের দাগ পড়তে পারে। পরিমাণ ঠিক
রাখা জরুরি। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের টোন সমান থাকে। এটি সব ধরনের ত্বকের জন্য
নিরাপদ। প্রাকৃতিক হওয়ায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কম থাকে। তাই একমি কমাতে এটি
কার্যকর।
নারিকেল তেল দিয়ে ফাংগাল একনি দূর করা
ফাংগাল একনি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে নারিকেল তেল খুবই কার্যকর। নারিকেলের
তেলে থাকা লরিক অ্যাসিড ফাঙ্গাস ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। এটি ত্বক
শুষ্ক না করে ভিতর থেকে ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখে। ফাংগাল একনির কারণে ত্বকের যে
রুক্ষতা দেখা যায় তা কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ব্যবহার করলে ত্বক নরম ও মসৃণ
থাকে। এটি সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী। নারিকেল তেল ত্বকের প্রদাহ কমায়। নিয়মিত ব্যবহার
করলে ব্রণ ধীরে ধীরে কমে আসে।
রাতে ঘুমানোর আগে অল্প পরিমাণ নারকেল তেল আক্রান্ত স্থানে লাগান। হালকা হাতে
ম্যাসাজ করুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান থাকে। অতিরিক্ত
তেল ব্যবহার করবেন না। সপ্তাহে ৩-৪ বার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
প্রাকৃতিক হওয়ায় এটি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ামুক্ত। নারিকেল তেল ত্বকের আদ্রতা ধরে
রাখে। নিয়মিত নারিকেল তেল ব্যবহার করলে ব্রণ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কালচে দাগ
ধীরে ধীরে কমে আসে।
আরো পড়ুন: সঠিক খাদ্যভাস ও পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে একনি নিয়ন্ত্রন করুন
মুখ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস
ফাংগাল একনি দূর করার ঘরোয়া উপায় সফল করতে মুখ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ। ময়লা, ঘাম ও তেল জমে থাকলে ফাঙ্গাস দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অপরিষ্কার
ত্বক ফাংগাল একনির প্রধান কারণগুলোর একটি। দিনে অন্তত দুবার মুখ ধোয়া উচিত। ত্বক
পরিষ্কার রাখলে নতুন ব্রণ কম হয়। ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার
রাখলে দাগ হালকা হয়। তাই নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। মুখ পরিষ্কার
থাকলে ফাংগাল একনি রোধ করা সম্ভব।
দিনে অন্তত দুইবার হালকা ও সালফেট মুক্ত ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে হবে। ঘাম হলে
দ্রুত মুখ পরিষ্কার করা উচিত। অতিরিক্ত মেকআপ বা তেলজাত প্রসাধনী এড়িয়ে চলুন।
পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করুন। নিয়মিত অভ্যাস বজায় রাখলে ফাংগাল একনি অনেকটাই
কমে। ত্বক স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল হয়। ত্বকের তেলতেলে ভাব কমে ও দাগ হালকা হয়।
প্রতিদিন ধোয়ার অভ্যাস ত্বককে সতেজ রাখে। এই অভ্যাস বজায় রাখলে ফাংগাল একনি
দ্রুত কমবে।
অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রন ও একনি কমানোর টিপস
ফাংগাল একনি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে ঘাম নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী। ঘাম ফাঙ্গাস বৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। গরম ও আদ্র আবহাওয়া একনি বেশি দেখা যায়। ঘাম জমতে না দেওয়াই সবচেয়ে ভালো প্রতিরোধ। নিয়মিত মুখ ধোয়া জরুরি। ত্বক পরিষ্কার থাকলে সংক্রমণ কমে। প্রতিদিন অন্তত দুইবার ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। ঘাম হলে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছুন। ত্বক শুষ্ক ও পরিষ্কার রাখলে একনি কমে। এসব অভ্যাস একনি প্রতিরোধে সহায়ক। ঘাম কম হলে ফাংগাল একটি দ্রুত কমে যায়।
পরিষ্কার ও শুকানো তোয়েলে ব্যবহার করুন। সেনথেটিক কাপড়ের বদলে সুতি কাপড় পরুন। বাইরে থেকে এসে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এই অভ্যাস বজায় রাখলে ফংগাল একনি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। ঘাম বেশি হলে মুখে ভারী ক্রিম ব্যবহার করবেন না। অ্যালোভেরা জেল ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। গোলাপজল ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ থাকে। পর্যাপ্ত ঘুম একনি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পরিষ্কার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ধীরে ধীরে ঘাম ও একনি দুটোই কমে আসবে।
সঠিক খাদ্যভাস বজায় রাখা ও একনি নিয়ন্ত্রন
ফাংগাল একনি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে খাদ্যভাসের ভূমিকা অনেক বড়। অতিরিক্ত
চিনি, ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার ভাঙ্গাস বৃদ্ধিতে সহায়ক। এসব খাবার শরীরের
হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে ত্বকের সমস্যা বাড়তে পারে। সবুজ শাকসবজি ও তাজা ফল
খাওয়া উচিত ভিটামিন ও মিনারেল ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ভুল খাবারের কারণে
শরীরের অতিরিক্ত তেল উৎপন্ন হয় এই অতিরিক্ত তেল ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দেয় ফলে
এক নিয়োগ গ্রহণ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
প্রচুর পানি পান করলে শরীরের টক্সিন বের হয়ে যায়। পানি ত্বক হাইডেটেড রাখতে সাহায্য করে। ঝাল ও অতিরিক্ত তেল যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। দুধ ও দই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উপকারী। ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার ত্বকের প্রদাহ কমায়। নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া ঠিক নয়। সুষম খাদ্য ত্বকের পি এইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখে। ভালো খাদ্যভাস মানসিক চাপও কমায়। এভাবে একনি নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয় ।
শেষকথা:পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক কমানো
ফাংগাল একনি দূর করার ঘরোয়া উপায় কার্যকর করতে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
ঘুমের অভাবে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় যা ত্বকের সমস্যা বাড়ায়। অতিরিক্ত
মানসিক চাপ ফাংগাল একনি বাড়িয়ে দিতে পারে। নিয়মিত ঘুম ত্বককে পুনজীবিত করে।
স্ট্রেজ কমালে ত্বকের প্রদাহও কমে। ভালো ঘুম ও শান্ত মানসিক অবস্থা ত্বককে সুস্থ
রাখে।
প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। নিয়মিত বিশ্রাম নিন এবং মানসিক চাপ
কমান। যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। মানসিক চাপ কমানোর জন্য
মেডিটেশন উপকারী। নিয়মিত অভ্যাস বজায় রাখলে ফাংগাল একনি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে
থাকে। ভালো ঘুম সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

.webp)
.webp)
নাহার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url