গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর করার উপায়
এক দিনে ব্রণ দূর করুন সহজে-এই লক্ষ্যেই আমরা নিয়ে এসেছি কার্যকর ও ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি, যা ত্বকের ক্ষতি না করেই ব্রণের লালচে ভাব ও জ্বালা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত যত্ন ও সঠিক উপাদান ব্যবহার করলে অল্প সময়েই ত্বকের দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে।
এক দিনে ব্রণ দূর করার সহজ উপায় জানতে চাইলে এই গাইডটি আপনার জন্যই। এখানে রয়েছে নিরাপদ ঘরোয়া টিপস, ত্বকের ধরন অনুযায়ী করণীয় এবং এমন কিছু ট্রিট যা দ্রুত ব্রণ কমাতে সহায়ক ও সহজে অনুসরণযোগ্য।
পেজসূচিপত্র: গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর করার ঘরোয়া ও কার্যকর উপায়
- এলোভেরা দিয়ে গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর
- মধু ব্যবহার করে গুড়ি গুড়ি ব্রণ কমানো
- লেবুর রস দিয়ে গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর
- গোলাপ জল দিয়ে ছোট ব্রন কমানো
- হলুদ দিয়ে গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর
- শসা দিয়ে গুড়ি গুড়ি ব্রণ কমানো
- বরফ ব্যবহার করে গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর
- নিমপাতা দিয়ে গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর
- টি ট্রি ওয়েল দিয়ে গুড়ি গুড়ি ব্রণ কমানো
- দই দিয়ে গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর
- মুখ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস ও ব্রণ প্রতিরোধ
- খাদ্যাভ্যাস ঠিক করে ব্রণ কমানো
- শেষকথা: পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস কমানো
এলোভেরা দিয়ে গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর
গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর করার উপায় হিসেবে এলোভেরা খুবই কার্যকর একটি প্রাকৃতিক
উপাদান। এলোভেরার এন্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ত্বকের ভেতরে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া
নষ্ট করে। এটি ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং নতুন ব্রণ উঠা বন্ধ করে। নিয়মিত ব্যবহার
করলে ত্বক শান্ত ও মসৃণ হয়। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এলোভেরা নিরাপদ।
এটি ত্বকের লালচে ভাব কমাতেও সাহায্য করে। এলোমেলো খাদ্যভাসের কারণে শরীরের
টক্সিন জমে যায়। এর প্রভাব সরাসরি ত্বকে পড়ে। ফলে মুখে গুড়ি গুড়ি ব্রণ বাড়তে
থাকে। নিয়মের অভাবে ত্বক তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারায়।
এলোভেরা জেল সরাসরি ব্রনের জায়গায় লাগাতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে পরিষ্কার
মুখে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ব্যবহার করুন। চাইলে
এলোভেরা জেলের সঙ্গে এক ফোঁটা গোলাপ জল মেশাতে পারেন। এতে ত্বক আরো হাইড্রেটেড
থাকবে। সময় মতো পানি পান ও স্বাস্থ্যকর খাবার ত্বক ভিতর থেকে ভালো রাখে। স্কিন
কেয়ারের ধারাবাহিকতা রাখা জুরুরি। মানসিক চাপ কমালে হরমোন ভারসাম্য ঠিক থাকে।
ধীরে ধীরে গুড়ি গুড়ি ব্রণ কমে যায়।
মধু ব্যবহার করে গুড়ি গুড়ি ব্রণ কমানো
গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর করার উপায় হিসেবে মধু একটি অত্যন্ত কার্যকর প্রাকৃতিক
উপাদান। মধুর এন্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ত্বকের ভেতরে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস
করে। এটি ব্রণের প্রদাহ ও লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত মধু ব্যবহার করলে
ত্বক নরম ও মসৃণ হয়। মধু ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ছোট ছোট ব্রণ
ধীরে ধীরে কমে যায়। সংবেদনশীল ত্বকের জন্যও মধু নিরাপদ। প্রাকৃতিক হওয়ায় এর
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব কম।
মধু ব্যবহার করার আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরী। পরিষ্কার আঙ্গুল বা তুলো
দিয়ে ব্রনের জায়গায় মধু লাগান। ১০-১৫মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে
ফেলুন। সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। চাইলে মধুর সঙ্গে অল্প গোলাপ
জল মেশাতে পারেন। এতে ত্বক আরো সতেজ থাকবে। নিয়মিত ব্যবহারে গুড়ি গুড়ি ব্রণ
স্পষ্টভাবে কমে যাবে। ত্বক দেখাবে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল। এতে ত্বক আরো হাইডেটেড
থাকবে।
লেবুর রস দিয়ে গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর
গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর করার উপায় হিসেবে লেবুর রস ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লেবুর রসে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের ভেতরের ময়লা
পরিষ্কার করে। এটি লোমকূপ বন্ধ হওয়া প্রতিরোধ করে। ফলে ছোট ছোট ব্রণ হওয়ার
প্রবণতা কমে যায়। লেবুর প্রাকৃতিক অ্যাসিড ব্রণের জীবাণু নষ্ট করতে সাহায্য করে।
নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। ব্রণের কারণে হওয়া কালচে দাগও
ধীরে ধীরে হালকা হয়। ত্বক দেখায় পরিষ্কার সতেজ।
লেবুর রস সরাসরি ব্যবহারের আগে অবশ্যই পানি মিশিয়ে নিতে হবে। সমপরিমাণ লেবুর রস
ও পানি মিশিয়ে তুলা দিয়ে লাগান। ১০ মিনিটের বেশি মুখে রাখবেন না। এরপর কুসুম
গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। সংবেদনশীল
ত্বকে ব্যবহার করলে আগে প্যাচ টেস্ট করুন। রোদে যাওয়ার আগে লেবুর রস ব্যবহার
করবেন না। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে গুড়ি গুড়ি ব্রণ দ্রুত কমবে।
আরো পড়ুন: গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর করার আরো ঘরোয়া পদ্ধতি
গোলাপ জল দিয়ে ছোট ব্রণ কমানো
গুড়ি গুড়ি দূর করার উপায় হিসেবে গোলাপ জল ত্বক ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে দারুন ভাবে কাজ করে। গোলাপ জল ত্বকের প্রাকৃতিক পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এটি লোমকূপ পরিষ্কার করে ছোট ব্রণ কমায়। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া কমে। গোলাপজলের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুন ব্রণের জীবাণু নষ্ট করে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে নতুন করে গুড়ি গুড়ি ব্রণ উঠার সম্ভাবনা কমে।সব ধরনের ত্বকের জন্য গোলাপ জল নিরাপদ।
গোলাপ জল ব্যবহারের আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করার জরুরী। পরিষ্কার তুলো দিয়ে
মুখে আলতো করে গোলাপজল লাগান। দিনে দুইবার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
চাইলে এটি টোনার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক মসৃণ ও
উজ্জ্বল হয়। গরমের সময় গোলাপ জল আরও বেশি উপকার দেয়। এটি ত্বকের ক্লান্তি দূর
করে। ধীরে ধীরে ছোট ব্রণ কমে ত্বক পরিষ্কার দেখায়।
হলুদ দিয়ে গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর
গুড়ি গুড়ি ব্রন দূর করার উপায় হিসেবে হলুদ একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক উপাদান।
হলুদের অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল ও অ্যান্টি- ইনফ্ল্যামেটরি গুণ ত্বকের জীবাণু
ধ্বংস করে। এটি ব্রণের ফোলা ভাব ও লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত হলুদ
ব্যবহার করলে ত্বকের সংক্রমণ কমে যায়। হলুদ ত্বকের ভিতরের ময়লা পরিষ্কার করে।
ফলে গুড়ি গুড়ি ব্রণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। এটি ত্বকের রং উজ্জ্বল করতেও
সহায়ক। প্রাকৃতিক হওয়ায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।
হলুদের ব্যবহারের সময় পরিমাণ ঠিক রাখা খুব জরুরী। ১ চামচ হলুদ গুড়োর সঙ্গে মধু
বা দুই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। পরিষ্কার মুখে প্যাকটি লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে
দিন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুইদিন ব্যবহার করলেই
যথেষ্ট। বেশি ব্যবহার করলে ত্বক হলদেটে হতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকে আগে
প্যাচ টেস্ট করুন। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে গুড়ি গুড়ি ব্রণ স্পষ্টভাবে কমে
যায়।
শসা দিয়ে গুড়ি গুড়ি ব্রণ কমানো
গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর করার উপায় হিসেবে শসা ত্বক ঠান্ডা ও আর্দ্র রাখতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শসায় থাকা প্রাকৃতিক পানি ত্বকের শুষ্কতা দূর করে।
এটি ত্বকের ভেতরের জ্বালা ও লালচে ভাব কমায়। নিয়মিত শসা ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ
থাকে। শসা লোমকূপ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ফলে ছো্ট ছোট গুড়ি গুড়ি ব্রণ হওয়ার
প্রবণতা কমে যায়। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেলও নিয়ন্ত্রণ করে। সব ধরনের ত্বকের
জন্য শসা নিরাপদ।
শসা ব্যবহার করার জন্য প্রথমে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। শসা ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি
করুন। পরিষ্কার মুখে পেস্টটি লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে
ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ দিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। চাইলে শসার রস তুলে
দিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। গরমের সময় এটি বেশি উপকার দেয়। নিয়মিত ব্যবহার গুড়ি
গুড়ি ব্রণ ধীরে ধীরে কমে যায়। এটি প্রাকৃতিক হওয়ায় পার্শপ্রক্রিয়া থাকে না।
আরো পড়ুন: সহজ টিপস এবং ট্রিক্স এক দিনে ব্রণ কমাতে
বরফ ব্যবহার করে গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর
গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর করার উপায় হিসাবে বরফ খুব দ্রুত কার্যকর একটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বরফ ত্বকের প্রদাহ ও ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে। এটি লোমকূপ সাময়িকভাবে ছোট করে দেয়। ফলে ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমতে পারেনা। বরফ ব্রণের কারণে হওয়া জ্বালাপোড়া কমায়। ত্বকে ঠান্ডা ও শান্ত রাখে। নিয়মিত ব্যবহার করলে গুড়ি গুড়ি ব্রণ ধীরে ধীরে কমে। ত্বক দেখায় আরো পরিষ্কার। প্রাকৃতিক হওয়ায় প্রতিক্রিয়া থাকে না।
বরফ ব্যবহার করার সময় সরাসরি ত্বকে লাগানো উচিত নয়। পরিষ্কার কাপড়ে বরফ
পেঁচিয়ে নিন। এরপর ব্রণের জায়গায় ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ধরে লাগান। সরাসরি
বরফ দীর্ঘ সময় রাখবেন না। দিনে ১-২ বার ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। বেশি সময় ব্যবহার
করলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকে সতর্ক থাকা জরুরী। ব্যবহার শেষে
মুখ মুছে নিন। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
নিমপাতা দিয়ে গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর
গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর করার উপায় হিসেবে নিমপাতা প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক
হিসেবে কাজ করে। নিম পাতা ত্বকের জীবাণু ধ্বংস করে এবং ব্রণের সংক্রমণ কমাতে
সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রণের ফোলা ভাব ও লালচে ভাব কমে। এটি লোমকূপ
পরিষ্কার রাখতে সহায়ক। নিমপাতা ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে নতুন
ব্রণ হওয়া কমে। প্রাকৃতিক হওয়ায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম থাকে। সব ধরনের ত্বকের
জন্য এটি নিরাপদ।
নিম পাতা ব্যবহার করার জন্য কিছু পাতা ভালোভাবে ধুয়ে বেটে পেস্ট তৈরি করুন।
পরিষ্কার মুখে পেস্টটি ব্রণের জায়গায় লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি
দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
চাইলে নিম জল দিয়ে মুখ ধোয়া যেতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ
দেখায়। নতুন ব্রণ উঠার সম্ভাবনাও কমে। ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হয়।
টি ট্রি ওয়েল দিয়ে গুড়ি গুড়ি ব্রণ কমানো
গুড়ি গুড়ি ব্রন দূর করার উপায় হিসেবে টি ট্রি ওয়েল একটি প্রাকৃতিক ও কার্যকর
উপাদান। এটি ত্বকের জীবাণু ধ্বংস করে এবং ব্রণের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।
নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রণ দ্রুত শুকায়। টি ট্রি ওয়েল ত্বকের অতিরিক্ত তেল
নিয়ন্ত্রণ করে। ছোট ছোট ব্রণ কমে যায়। লোমকূপ পরিষ্কার থাকে। এটি ত্বকের ফুলা
ভাব কমাতে কার্যকর। প্রাকৃতিক হওয়ায় পার্শপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম থাকে।
টি ট্রি ওয়েল ব্যবহার করার জন্য এক ফোঁটা অয়েল নিবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নারিকেল বা জলবিন্দু তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নেবেন। পরিষ্কার মুখে ব্রনের জায়গায় আলতো করে লাগান। দিনে একবার ব্যবহার যথেষ্ট। সরাসরি ব্যবহার করলেই সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা হতে পারে। সপ্তাহে ২-৩ দিন নিয়মিত ব্যবহার করুন। ধীরে ধীরে গুড়ি গুড়ি ব্রণ কমতে শুরু করবে। ত্বক হবে পরিস্কার ও সতেজ। নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের পুনরাবৃত্তি কমে।
আরো পড়ুন: দ্রুত ফলা্ফলের জন্য ব্রণ হ্রাসের কার্যকর উপায়গুলো
দই দিয়ে গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর
গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর করার উপায় হিসেবে দই একটি প্রাকৃতিক ও কার্যকর উপাদান।
দইয়ের প্রবায়োটিক ত্বকের ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল
নিয়ন্ত্রণ করে। ব্রণের প্রদাহ ও লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার
করলে ব্রণ দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। দই ত্বকে নরম ও মসৃন রাখে। ছোট ছোট গুড়ি
গুড়ি ব্রণ দ্রুত কমে যায়। দই প্রাকৃতিক হওয়ায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কম
থাকে।
দই ব্যবহারের জন্য এক চামচ খাটি টক দই নিন। পরিষ্কার মুখে ব্রনের জায়গায় আলতো
করে লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ দিন
ব্যবহার যথেষ্ট। চাইলে দইয়ের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে লাগাতে পারেন। ব্রণের
লালচে ও কালো দাগ দূর করে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও সতেজ। ব্রণের
পুনরাবৃত্তি কমে যায়। ত্বক থাকবে পরিষ্কার ও হাইড্রেটেড।
মুখ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস ও ব্রণ প্রতিরোধ
গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর করার উপায় হিসেবে মুখ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস ও ব্রণ
প্রতিরোধ খুব গুরুত্বপূর্ণ। মুখ অপরিষ্কার রাখলে ত্বকে তেল, ময়লা ও জীবাণু জমে।
এতে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। নিয়মিত মুখ ধোয়া ব্রণের বিকাশ রোধ করে। স্কিন
পোর পরিষ্কার থাকলে নতুন ব্রণ উঠে না। এটি ত্বকে সতেজ ও নরম রাখে। দিনের শুরুতে ও
দিনের শেষে মুখ পরিষ্কার করা উচিত। পরিষ্কার ত্বক ব্রণ কমানোর প্রথম ধাপ।
মুখ পরিষ্কার রাখার অভ্যাসের সঙ্গে ভালো স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চলাও
জরুরী। দিনে ২ বার হালকা ফেসওয়াস ব্যবহার করুন। ত্বক হাইড্রেটেড রাখতে হালকা
ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সপ্তাহে ১-২ বার মৃদু স্ক্রাব করা যেতে পারে। হাত
পরিষ্কার না থাকলে মুখ স্পর্শ করবেন না। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। স্বাস্থ্যকর
খাবার খান। ধীরে ধীরে ব্রণ কমতে শুরু করবে। নিয়মিত অভ্যাস ত্বককে উজ্জ্বল ও
স্বাস্থ্যবান রাখে।
খাদ্যাভ্যাস ঠিক করে ব্রণ কমানো
গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর করার উপায় হিসেবে খাদ্যভাস ঠিক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অগোছালো বা তেলযুক্ত খাবার বেশি খেলে ত্বকে ব্রণের সমস্যা বাড়ে। ভিটামিন এবং
খনিজ সমৃদ্ধ খাবার ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। পর্যাপ্ত পানি পান ত্বক
হাইড্রোটেড রাখে। সবজি ও ফল ব্রনের জন্য উপকারী। চিনি ও চিনি জাত খাবার কমানো
উচিত। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস ব্রন কমাতে কার্যকর। নিয়মিত খাওয়া এবং সঠিক সময়ে
খাওয়া ত্বককে সতেজ রাখে।
খাদ্যভাস ঠিক রাখতে প্রতিদিন নিয়মিত খাবার খান। ভিটামিন এ, সি, ই সমৃদ্ধ খাবার
অন্তর্ভুক্ত করুন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার
খান। ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত তেল এড়ানো জরুরি। চা-কফি অতিরিক্ত খাওয়া এড়ান।
স্বাস্থ্যকর খাবার ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত খাদ্যভাস ব্রণ
কমায়। ধীরে ধীরে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল দেখায়। খাদ্যভাস হচ্ছে ব্রণ কমানোর
মূল চাবিকাঠি।
শেষকথা:পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস কমানো
গুড়ি গুড়ি ব্রণ দূর করার উপায় হিসেবে পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস কমানো খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। কম ঘুমে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। এতে ত্বকে অতিরিক্ত তেল
উৎপন্ন হয়। ফলে ব্রণের সমস্যা বাড়ে। মানসিক চাপও ব্রণ বাড়ানোর একটি প্রধান
কারণ। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়া ত্বককে বিশ্রাম দেয়। এটি ব্রণের প্রদাহ
কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ঘুম ত্বককে সতেজ উজ্জ্বল রাখে। ব্রণ কমানোর জন্য
বিশ্রামের খুব প্রয়োজন।
স্ট্রেস কমাতে নিয়মিত মেডিটেশন, হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন। প্রতিদিন
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। রাতে শুতে যাওয়ার সময় মোবাইল বা ল্যাপটপ কম ব্যবহার
করুন। চাপ কমাতে হালকা মিউজিক শোনা যেতে পারে। মানসিক চাপ কমলে হরমোন ভারসাম্য
ঠিক থাকে। ধীরে ধীরে ব্রণ কমতে শুরু করে। নিয়মিত অভ্যাস ত্বককে মসৃণ ও
স্বাস্থ্যবান রাখে।

.webp)
.webp)
নাহার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url