কফি দিয়ে মেসতা দূর করার উপায়
মেসতায় বিরক্ত? কফির জাদু জানুন এবং প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে উজ্জ্বল করুন। কফির
ক্যাফেইন ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। এতে ত্বক প্রাণবন্ত ও সতেজ
দেখায়। কফি ত্বকের ডেড স্ক্রিন দূর করতে কার্যকর। নিয়মিত ব্যবহারে কালচে
দাগ ধীরে হালকা হয়।ঘরে বসেই সহজে এই প্যাক ব্যবহার করা যায়।
কফির সাথে প্রাকৃতিক উপাদান যেমন দই বা মধু মিশিয়ে ব্যবহার করলে কার্যকারিতা
বাড়ে। এটি ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখে। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করা
যথেষ্ট। অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। চোখের চারপাশে এড়িয়ে
ব্যবহার করুন। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর হয়।
পেজসূচিপত্র: কফি দিয়ে ত্বক উজ্জ্বল ও মেসতা কমানোর উপায়
- কফি ও মধু দিয়ে মেসতা কমানোর উপায়
- কফি ও লেবুর রস ব্যবহারে মেসতা দূর
- কফি ও দই দিয়ে ত্বক উজ্জ্বল করা
- কফি স্ক্রাব দিয়ে ডেট স্কিন দূর
- কফি ও অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারের উপকারিতা
- কফি ও নারিকেল তেল দিয়ে স্কিন কেয়ার
- কফি ফেস প্যাক নিয়মিত ব্যবহারের নিয়ম
- রোদে পোড়া মেসতাই কফির কার্যকারিতা
- তৈলাক্ত ত্বকে কফি ব্যবহারের সতর্কতা
- কফি দিয়ে মেসতা দূর করতে কতদিন লাগে
- শেষকথা:
কফি ও মধু দিয়ে মেসতা কমানোর উপায়
কফি দিয়ে মেসতা দূর করার উপায় হিসেবে কফি ও মধু খুব জনপ্রিয় একটি প্রাকৃতিক
সমাধান। কফি ও মধু দিয়ে মেসতা কমানোর উপায় প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের যত্ন নিতে
সহায়তা করে। কফি ত্বকের ডেট স্কিন দূর করে দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। কফি
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ডেট সেল দূর করে এবং মধু ত্বক নরম ও উজ্জ্বল রাখে। এই
দুটি উপাদান একসাথে মিশালে ত্বকে জমে থাকা মেসতা ধীরে ধীরে হালকা হয়। কফির
ক্যাফেইন ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। মধু ত্বকে পুষ্টি যোগায়। ঘরে বসে সহজেই
এই প্যাক তৈরি করা যায়।
কফি পাউডারের সাথে ১ চা চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে পেস্ট বানান। মুখে লাগিয়ে ১০-১৫
মিনিট রেখে হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন। এই প্যাক ব্যবহারে ত্বকের শুষ্কতা ও রুক্ষতা
কমে। মধু ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখে। কফি ত্বকের ক্লান্ত ভাব দূর করে।
সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহারের আগে
প্যাচ টেস্ট করা জরুরি। ব্যবহার শেষে হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। বাইরে বের
হলে সানস্কিন ব্যবহার করা প্রয়োজন। নিয়মিত ব্যবহার করলে মেসতার কালচে ভাব
কমে।
কফি ও লেবুর রস ব্যবহারে মেসতা দূর
কফি দিয়ে মেসতা দূর করার উপায় এর মধ্যে কফি ও লেবুর রস খুব কার্যকর। কফি ও
লেবুর রস ব্যবহারে মেসতা দূর করা প্রাকৃতিকভাবে সম্ভব। কফি ত্বকের ডেড স্কিন দূর
করতে সাহায্য করে। লেবুর রস প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে কাজ করে। লেবুর ভিটামিন সি
ত্বকের কালো দাগ হালকা করে এবং কফি স্কিন ব্রাইট করতে সাহায্য করে। এই দুটি
একসাথে ব্যবহার করলে ত্বকের কালচে দাগ হালকা হয়। কফির ক্যাফেইন ত্বকের রক্ত
সঞ্চালন বাড়ায়। লেবুর ভিটামিন সি ত্বক উজ্জ্বল করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে মেসতা
ধীরে কমে। ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ দেখায়।
১ চা চামচ কফির সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে ৫-৭ মিনিট রাখুন বেশি সময় নয়। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে কফি ও লেবুর রস ব্যবহারের সময় কিছু সতর্কতা জরুরি। সংবেদনশীল ত্বকে লেবুর রস সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়। লেবুর রস সবসময় অল্প পরিমানে ব্যবহার করতে হবে। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করাই নিরাপদ। ব্যবহার শেষে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর ময়েশ্চারাইজার লাগানো জুরুরি।রোদে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
কফি ও দই দিয়ে ত্বক উজ্জ্বল করা
কফি দিয়ে মেস্তা দূর করার উপায় হিসেবে দই একটি নিরাপদ উপাদান। কফি ও দই দিয়ে
ত্বক উজ্জ্বল করা একটি সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়। দই ত্বক ঠান্ডা রাখে এবং রোদে
পোড়া দাগ কমাতে সাহায্য করে। কফি ত্বকের ডেট স্কিন দূর করতে সাহায্য করে। দই এর
ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের রং পরিষ্কার করে। এই দুটি একসাথে ব্যবহার করলে ত্বক মসৃণ
হয়। কফির ক্যাফেইন ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। দই ত্বকে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা
যোগায়। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। ঘরে বসেই এই ফেস প্যাক ব্যবহার
করা যায়।
১ চামচ কফি ও ১ চামচ দই ভালো করে মিশিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন।
হালকা হাতে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ব্যবহার করলে মেসতা ধীরে ধীরে
কমে।এই প্যাক ত্বকের কালচে দাগ ও মেসতা হালকা করতে সহায়ক। দই ত্বকের শুষ্কতা ও
রুক্ষতা কমায়। কফি ত্বকের ক্লান্ত ভাব দূর করে। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার
যথেষ্ট। সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা জরুরী। ব্যবহারের পর
হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। রোদে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা
প্রয়োজন।
আরো পড়ুন: প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বক উজ্জ্বল করার সহজ ঘরোয়া টিপস
কফি স্ক্রাব দিয়ে ডেট স্কিন দূর
কফি দিয়ে মেসতা দূর করার উপায় এর বড় সুবিধা হল এটি প্রাকৃতিক স্ক্রাব হিসেবে
কাজ করে। কফি ত্বকের উপরে মৃত কোষ তুলে ফেলে নতুন স্কিন বের হয়। কফি স্ক্রাব
দিয়ে ডেট স্কিন দূর করা একটি প্রাকৃতিক ও কার্যকর উপায়। কফির দানাদার অংশ
ত্বকের মৃত্যু কোষ আলতোভাবে তুলে ফেলে। এতে ত্বক পরিষ্কার ও মসৃণ হয়। কফি ত্বকের
রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ দেখায়। নিয়মিত
ব্যবহার করলে ত্বকের রুক্ষতা কমে। ঘরে বসেই সহজে এই স্ক্রাব ব্যবহার করা
যায়।
ভেজা মুখে শুধু কফি পাউডার নিয়ে ২ মিনিট আলতো ভাবে মেসেজ করুন। তারপর পানি দিয়ে
ধুয়ে ফেলুন। কফি স্ক্রাব ব্যবহার করার সময় হালকা হাতে মেসেজ করা জরুরী। সপ্তাহে
এক থেকে দুইবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। অতিরিক্ত স্ক্রাব ত্বক শুষ্ক বা
সংবেদনশীল করতে পারে। স্ক্রাবের পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
সমবেদনশীল ত্বকে আগে প্যাচ টেস্ট করা প্রয়োজন। চোখের চারপাশে স্ক্রাব ব্যবহার
করবেন না। রাতে স্ক্রাব করলে ফল ভালো পাওয়া যায়। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ত্বক
স্বাস্থ্যকর থাকে।
কফি ও অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারের উপকারিতা
কফি দিয়ে মেসতা দূর করার উপায় এ অ্যালোভেরা জেল খুবই উপকারী। কফি ও অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারের উপকারিতা ত্বকের যত্নে খুবই কার্যকর। কফি ত্বকের ডেট স্কিন দূর করতে সাহায্য করে। এলোভেরা জেল ত্বক ঠান্ডা ও শান্ত রাখে। এই দুটি একসাথে ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়। কফির ক্যাফেইন ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। অ্যালোভেরা ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক মসৃণ ও সতেজ রাখে। ঘরে বসে প্রাকৃতিক স্কিন কেয়ার সম্ভব হয়।
১ চা চামচ কফি ও ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে
ফেলুন। সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এই প্যাক ত্বকের কালচে
দাগ ও মেসতা হালকা করতে সহায়ক। এলোভেরা জেল ত্বকে আদ্রতা ধরে রাখে। কফি ত্বকের
ক্লান্ত ভাব দূর করে। ব্রণ ও রোদে পোড়া ত্বকের জন্য এটি উপকারী। তৈলাক্ত ত্বকে
অতিরিক্ত তেল ছাড়াই যত্ন নেওয়া যায়। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করা
নিরাপদ। ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা ভালো। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ত্বক
উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর হয়।
আরো পড়ুন: মেসতা দূর করতে ঘরে বসে বানানো ফেস প্যাক আইডিয়া
কফি ও নারিকেল তেল দিয়ে স্কিন কেয়ার
কফি দিয়ে মেসতা দূর করার উপায় হিসেবে নারিকেল তেল শুষ্ক ত্বকের জন্য উপযোগী। কফি ও নারিকেল তেল দিয়ে স্কিন কেয়ার করলে ত্বক প্রাকৃতিকভাবে পুষ্টি পায়। কফি ত্বকের ডেড স্কিন দূর করতে সাহায্য করে। নারিকেল তেল ত্বক নরম ও আর্দ্র রাখে। এই দুটি উপাদান একসাথে ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়। কফির ক্যাফেইন ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। নারিকেল তেল ত্বকের শুষ্কতা কমায়। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর হয়। ঘরে বসেই সহজে এই স্কিন কেয়ার করা যায়।
কফি পাউডারের সাথে কয়েক ফোঁটা নারিকেল তেল মিশিয়ে প্যাক বানান। মুখে লাগিয়ে ১০
মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। কফি ও নারিকেল তেল ত্বকের কালচে দাগ হালকা করতে
সহায়তা করে। এটি ত্বকে হালকা মেসেজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। শুষ্ক ও স্বাভাবিক
ত্বকের জন্য এই প্যাক বেশি উপকারী। তৈলাক্ত ত্বকে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত।
সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার যথেষ্ট। ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা নিরাপদ।
চোখের চারপাশ এড়িয়ে ব্যবহার করতে হবে। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল
দেখায়।
কফি ফেস প্যাক নিয়মিত ব্যবহারের নিয়ম
কফি দিয়ে মেছতা দূর করার উপায় কাজ করবে তখনই যখন নিয়ম মেনে ব্যবহার করবেন। কফি
ফেস প্যাক নিয়মিত ব্যবহার করার জন্য সঠিক নিয়ম মানা জরুরি। প্রথমে মুখ ভালোভাবে
পরিষ্কার করতে হবে। কফি প্যাক চোখের চারপাশ এড়িয়ে ব্যবহার করুন। ১৫-২০ মিনিটে
রেখে হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার যথেষ্ট। অতিরিক্ত
ব্যবহার ত্বক শুষ্ক বা লালচে করতে পারে। ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা ভালো।
নিয়মিত ব্যবহার ফলপ্রসূ হয় এবং তো উজ্জ্বল দেখায়।
ব্যবহারের পরে অবশ্যই হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান। তৈলাক্ত বা সংবেদনশীল ত্বকের
জন্য কফির সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা ভালো। রাতে ব্যবহার করলে
প্রাকৃতিকভাবে ত্বক পুনরুজ্জীবিত হয়। রোদে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
সপ্তাহে ধারাবাহিক ব্যবহার করলে মেসতা ধীরে হালকা হয়। রঙ সমান হয় ও ত্বক মসৃণ
থাকে। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে কপি ফেস প্যাক কার্যকর এবং নিরাপদ।
আরো পড়ুন: কফি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ত্বক পরিষ্কার
রোদে পোড়া মেসতাই কফির কার্যকারিতা
কফি দিয়ে মেছতা দূর করার উপায় সূর্যের ক্ষতির জন্য বেশি কার্যকর। রোদে পোড়া
মেসতায় কফির কার্যকারিতা ধীরে ধীরে ত্বকের কালচে দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।
কফির মধ্যে থাকা ক্যাফেইন ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এতে রোদে পোড়া ত্বক
কিছুটা আরাম পায়। কফির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সহায়তা
করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের রং ধীরে সমান হতে শুরু করে। কফি ত্বকের মৃত কোষ
দূর করে নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। ফলে মেসতার দাগ ধীরে হালকা হয়। প্রাকৃতিক
উপায়ে উজ্জ্বল দেখায়।
রোদে পোড়া ত্বকে কফি ব্যবহারের সময় সতর্কতা জুরুরি। কফির সাথে এলোভেরা জেল বা দই
মিশিয়ে ব্যবহার করলে ঠান্ডা অনুভূতি পাওয়া যায়। এতে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমে।
সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত স্ক্রাব করলে ত্বক আরো ক্ষতিগ্রস্ত
হতে পারে। ব্যবহার শেষে ময়েশ্চারাইজার লাগানো প্রয়োজন। বাইরে বের হলে অবশ্যই
সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত যন্ত নিলে রোদে পোড়া মেসতা ধীরে ধীরে কমে
আসে।
তৈলাক্ত ত্বকে কফি ব্যবহারের সতর্কতা
কফি দিয়ে মেসতা দূর করার উপায় তৈলাক্ত ত্বকের জন্যও ভালো, তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি
নয়। তৈলাক্ত ত্বকে কফি ব্যবহারের সময় কিছু বিশেষ সতর্কতা মানা জরুরি। কফি
ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করলেও বেশি ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
সপ্তাহে এক থেকে দুইবারের বেশি কফি ব্যবহার করা উচিত নয়। কফি স্ক্রাব খুব জোরে
ঘষা যাবে না, এতে ব্রণ বাড়তে পারে। ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করতে হবে।
ত্বকে জ্বালা বা লালচে ভাব হলে ব্যবহার বন্ধ করা প্রয়োজন। ব্রণ আক্রান্ত স্থানে
সরাসরি কফি না লাগানো নিরাপদ।
তৈলাক্ত ত্বকে কফির সাথে ভারী উপাদান মেশানো উচিত নয়। যেমন বেশি মধু বা তেল
ব্যবহার করলে ত্বক আরো তেলতেলে হতে পারে। কফির সাথে অ্যালোভেরা জেল বা গোলাপজল
ব্যবহার করা তুলনামূলক নিরাপদ। মুখ পরিষ্কার করে কফি ব্যবহার করলে ফল ভালো হয়।
ব্যবহারের পর অবশ্যই হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। দিনে কফি ব্যবহার না করে
রাতে ব্যবহার করা ভালো। বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। নিয়ম
মেনে ব্যবহার করলে তৈলাক্ত ত্বকেও কফি নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায়।
কফি দিয়ে মেসতা দূর করতে কতদিন লাগে
কফি দিয়ে মেসতা দূর করার উপায় নিয়মিত অনুসরণ করলে সাধারণত ১০-১৫ দিনের
মধ্যে ত্বক পরিবর্তন দেখা যায়। হালকা মেসতা হলে কফি ফেস প্যাক ব্যবহারে ধীরে
ধীরে কালচে ভাব কমতে শুরু করে। কফির মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্যাফেইন
ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। এতে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হয়। সপ্তাহে
অন্তত ২ বার কফি ব্যবহার করা ভালো। তবে একদিনে ফল পাওয়া যায় না, ধৈর্য ধরে
ব্যবহার করা জরুরী। নিয়ম না মানলে ফল পেতে দেরি হতে পারে।
গভীর বা পুরানো মেসতার ক্ষেত্রে ফল পেতে কিছুটা বেশি সময় লাগে। সাধারণত ৩ থেকে ৪
সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহার করলে মেছতা ধীরে ধীরে হালকা হতে শুরু করে। ত্বকের সাথে
মানানসই উপাদান যেমন দই, মধু বা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ব্যবহার করলে ফল আরো ভালো
হয়। পাশাপাশি রোদে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। নিয়মিত যত্ন নিলে কফি
প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। ধৈর্য ধরে ব্যবহার করলে প্রাকৃতিকভাবে
ভালো ফল পাওয়া যায়।
শেষকথা:
কফি ব্যবহার করে ত্বকের মেসতা কমানো একটি সহজ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি। নিয়মিত ও
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে ত্বকের কালচে দাগ হালকা হতে পারে। কফির
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখতে সহায়তা করে। ঘরে থাকা সাধারণ
উপাদান দিয়ে সহজেই এই যত্ন নেওয়া যায়। তবে ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে ব্যবহার করা
খুব জরুরী। ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপাদান বেছে নেওয়ায় সবচেয়ে ভালো।
সব ধরনের ত্বকে কফি একভাবে কাজ নাও করতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা
নিরাপদ। অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। পাশাপাশি রোদে বের হলে
সানস্ক্রিন ব্যবহার করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে
সহায়ক। নিয়মিত যত্ন নিলে ত্বক থাকবে সুন্দর ও মসৃণ।

.webp)
.webp)
নাহার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url