খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায়
খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় হলো ঘরোয়া প্রাকৃতিক পদ্ধতি অবলম্বন করা।
তাজা আদা ও মধু মিশিয়ে খেলে গলার জ্বালা কমে এবং কাশি ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। গরম
পানি বা লেবুর চা নিয়মিত পান করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। সহজ এই পদ্ধতিতে
শরীরও স্বস্তি পায়।
কাশি দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করে তুলসী পাতা বা রস খেতে পারেন। বাষ্প
গ্রহণ করলে শ্বাসনালী পরিষ্কার হয় এবং কাশি অনেকাংশে কমে। ঘুমানোর আগে এই পদ্ধতি
মেনে চললে, আরো দ্রুত উপকার পাওয়া যায় এবং খুসখুসে কাশি দূর করা সহজ হয়।
পেজসূচিপত্র: খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার ঘরোয়া উপায় নিচে দেখানো হলো
- ঘরোয়া উপায়ে খুসখুসে কাশি কমানোর সহজ কৌশল
- আদা ও মধু দিয়ে কাশি উপশমের কার্যকর পদ্ধতি
- তুলসী পাতার উপকারিতা কাশি কমাতে কিভাবে কাজ করে
- গরম পানির ভাপ নেওয়া সঠিক নিয়ম ও উপকার
- লবণ পানির গার্গল কেন কাশিতে আরাম দেয়
- রাতে খুসখুসে কাশি বাড়ে কেন এবং প্রতিরোধের উপায়
- কাশি কমাতে কোন খাবার খাবেন আর কোনগুলো এড়াবেন
- শিশু ও বয়স্কদের খুসখুসে কাশির আলাদা যত্ন
- শুষ্ক আবহাওয়া কাশি কমানোর কার্যকর টিপস
- কাশি দীর্ঘস্থায়ী হলে কখন ডাক্তার দেখাবেন
- ঘুমের আগে পানি খাওয়ার নিয়ম কাশি কমানোর উপায়
- প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপাদান দিয়ে কাশি নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল
- শেষকথা:
ঘরোয়া উপায়ে খুসখুসে কাশি কমানোর সহজ কৌশল
খুশখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় হিসেবে ঘরোয়া পদ্ধতি খুবই কার্যকর। আদা,
মধু, তুলসী ও গরম পানি গলার শুষ্কতা কমায়। এগুলো সহজলভ্য এবং নিরাপদ। নিয়মিত
ব্যবহার করলে কাশির তীব্রতা কমে। অনেক সময় ওষুধ ছাড়াই আরাম পাওয়া যায়। তুলসী
ও লেবু কাশির জ্বালা কমাতে সাহায্য করে। খুসখুসে কাশি দূর করতে গরম পানি গোলাকে
আরাম দেয় এবং ভালো রাখে। এগুলো সহজেই ঘরে পাওয়া যায়, নিয়মিত ব্যবহার করলে
খুশখুসে কাশি কমে যায়।
ঘরোয়া উপায়ে ধৈর্য ধরে চলতে হয়। প্রতিদিন একই নিয়ম মানা জরুরি। রাতে ঘুমানোর
আগে গরম পানিয় খেলে ভালো উপকার হয়। ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা উচিত। এ পদ্ধতি কফ
কমাতে সাহায্য করে। একদিনে ফল নাও পাওয়া যেতে পারে। খুশখুসে কাশি দূর করতে হলে
ঘর পরিষ্কার ও ধুলোমুক্ত রাখা দরকার। এভাবে চললে কাশি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
খুসখুসে কাশি কমাতে হলে ধুলোবালি ও ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলতে হবে।
আদা ও মধু দিয়ে কাশি উপশমের কার্যকর পদ্ধতি
খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় হিসেবে আদা ও মধু খুব পরিচিত। আদা গলার
ভিতরে প্রদাহ কমায়। মধু গলায় প্রাকৃতিক আস্তরণ তৈরি করে। এতে গলার জালা ও
খুসখুসে ভাব কমে।নিয়মিত খেলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। খুসখুসে কাশি ধীরে ধীরে
হালকা হয়। নিয়মিত খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। রাতে ঘুমানোর আগে গরম পানিও খাওয়া
ভালো ঠান্ডা বাতাস থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে হলে। খুশখুসের কাশি অনেকাংশে কমে
আসবে।
এক চামচ আদার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়া যায়। দিনে এক থেকে দুইবার খাওয়াই
যথেষ্ট। রাতে খেলে কাশি বেশি কমে। শিশুদের ক্ষেত্রে পরিমাণটা কম দিতে হবে।
খালি পেটে খেলে বেশি উপকার হয়। দীর্ঘদিন কাশি থাকলে ডাক্তারের ডাক্তার দেখানো
জরুরী।তুলসি চা বা রস ব্যবহার করা যায়। মধু মিশিয়ে খেলে উপকার আরো বৃদ্ধি পায়।
গলা পরিষ্কার ও সতেজ থাকে, ঠান্ডা লাগার ঝুঁকিও কমে। দীর্ঘমেয়াদে খুসখুসে
কাশি প্রতিরোধ হয়।
তুলসী পাতার উপকারিতা কাশি কমাতে কিভাবে কাজ করে
খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় হিসেবে তুলসী পাতার ব্যবহার খুব কার্যকর।
তুলসিতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। এটি গলার সংক্রমন কমাতে সাহায্য করে।
নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। গলা ফোলা বা জ্বালা অনুভূতিকে
তাৎক্ষণিকভাবে আরাম দেয়। তুলসীর রস বা গরম চায়ের মাধ্যমে কাশি ও কফ দূর হয়।
এছাড়া তুলসী শ্বাস-প্রশ্বাসকে সহজ করে এবং শ্বাসনালীর সংক্রমণ হ্রাস করে।
খুশখুসে কাশি কমাতে তুলসী পাতার ব্যবহার খুব কার্যকর।
তুলসীর চা বা রস ব্যবহার করা যায়। মধু মিশিয়ে খেলে উপকার আরো বৃদ্ধি পায়।
সকালে খালি পেটে খাওয়া ভালো, গলা পরিষ্কার থাকে ঠান্ডা লাগার ঝুঁকিও কমে। তুলসী
পাতায় উপস্থিত ইউজেনল উপাদান শ্বাসনালীর পেশী শিথিল করতে সাহায্য করে। এটি
গলা ও ফুসফুসের প্রদাহ কমায়, ফলে কাশি কমে। গরম পানি বা চায়ের সঙ্গে তুলসী
পাতার রস মিশিয়ে খেলে প্রাকৃতিক উপায়ে খুসখুসে কাশির উপশম হয়।
গরম পানির ভাপ নেওয়া সঠিক নিয়ম ও উপকার
খুসখুশে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় হিসেবে গরম পানির ভাব দ্রুত কাজ করে। ভাপ
শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখে এবং কফ নরম করে। গলার শুষ্কতা কমায় এবং আরাম দেয়। জমে
থাকা কফ ধীরে ধীরে নরম হয়। শ্বাস নিতে সহজ হয় এবং রাতে কাশি কমে। নিয়মিত ভাব
নেওয়া অনেক উপকারী। সকালে খালি পেটে বা রাতে ঘুমানোর আগে গরম পানি নেওয়া
সবচেয়ে কার্যকর। এটি গলা ও শ্বাসনালী পরিষ্কার করে সর্দি ও কাশি কমাতে সাহায্য
করে। ফলে খুশখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর হয়।
গরম পানির ভাপ শ্বাসনালী ও গলার প্রদাহ কমায়, ফলে কাশি ও গলার জালা হ্রাস পায়।
এটি ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং শীতল কাশি প্রতিরোধের কার্যকর। গরম পানি
নিয়মিত পানের ফলে রক্ত সংবহন ভালো থাকে এবং শ্বাস প্রশ্বাস সহজ হয়। এছাড়াও
শরীরকে উষ্ণ রাখে এবং শীতকালীন রোগ প্রতিরোধ সাহায্য করে। খুসখুসে কাশি কমাতে গরম
পানির গুরুত্ব অপরিহার্য। শিশু বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে সতর্কভাবে সঠিক তাপমাত্রায়
ব্যবহার করা জরুরী।
লবণ পানির গার্গল কেন কাশিতে আরাম দেয়
খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় হিসেবে লবণ পানির গারগোল খুব কার্যকর। লবণ
গলার জীবাণু ধ্বংস করে। গলার ফোলা ও ব্যথা কমায়। খুসখুসে জ্বালা হ্রাস করে।
কাশির চাপ অনেকটা কমে যায়, গলা পরিষ্কার ও শক্ত থাকে।কাশি বা গলার জ্বালা কমাতে
গরম পানির গার্গল অত্যন্ত কার্যকর।প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক হিসাবে কাজ করে এবং
গলার মিউকাস বা কফকে নরম করে সহজে বের হতে সাহায্য করে। গরম পানি ও লবণের মিশ্রণ
গলা থেকে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস দূর করতে সক্ষম।
গরম পানির গার্গল গলার পেশী শিথিল করে, ফলে জ্বালা ও চিঁড়ে যাওয়ার অনুভূতি কমে।
এটি গলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং কফ তৈরি কমায়। দিনে ২-৩ বার গার্গল করলে
দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। শিশু ও বয়স্কদের জন্যও এটি নিরাপদ প্রাকৃতিক পদ্ধতি।
নিয়মিত ব্যবহারে গলার স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং খুশখুসে কাশি ধীরে ধীরে কমে। এটি
শীতকালে সর্দি কাশি প্রতিরোধেও সাহায্য করে। গলা পরিষ্কার থাকায় শ্বাসপ্রশ্বাসও
সহজ হয়।
রাতে খুসখুসে কাশি বাড়ে কেন এবং প্রতিরোধের উপায়
খুশখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় রাতে বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। শুয়ে
থাকলে গলা শুকিয়ে যায় এবং কাশি বাড়ে। এসিড রিফ্লাক্স ও ঠান্ডা বাতাসও জ্বালা
বাড়ায়। রাতের কাশি ঘুম ভেঙ্গে যায়। বাড়তি শ্বাসকষ্ট হতে পারে, গলা আদ্র রাখতে
ঘুমের আগে গরম পানিয় খাওয়া উচিত। রাতে খুসখুসে কাশি বাড়ার প্রধান কারণ হলো
শ্বাসনালীতে মিউকাস জমা হওয়া এবং শরীর শুয়ে থাকায় গলার কফ নিচে নেমে যায়।
ধূলিকণা, ধোয়া বা এলার্জেনের সংস্পর্শ রাতে কফ উত্তেজিত করতে পারে। রাতে খুশখুসে
কাশি কমাতে ঘরের আদ্রতা বজায় রাখা জরুরী।
খুসখুসে কাশি প্রতিরোধের জন্য গরম পানি বা তুলসী চায়ে কফ নরম হয়ে যায়। ঘরে
ধুলো ময়লা কমানো এবং এলার্জেন দূর রাখা প্রয়োজন। রাতের খাবারের পরে ভারী বা
তেলুক্ত খাবার এড়ানো উচিত। শীতকালে গলা ঢেকে রাখা ও আদ্রতা বজায় রাখা উপকারী।
নিয়মিত গরম পানির গার্গল বা মধু তুলসী খাওয়াও কাশি কমাতে সাহায্য করে। এমন যত্ন
নিয়মিত নিলে রাতে কাশি বৃদ্ধি কমে এবং ভালো ঘুম আসে।
কাশি কমাতে কোন খাবার খাবেন আর কোনগুলো এড়াবেন
খুশখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় হিসেবে সঠিক খাবার বেছে নেওয়া জরুরী।
কাশি থাকলে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। গরম দুধ, মধু, তুলসী বা আদার চা
কাশি উপশমের সাহায্য করে। শাকসবজি ভাজি কমানো খাদ্য এবং হালকা স্যুপ পেট ও গলার
জন্য ভালো। ফলমূল যেমন কমলা, পেয়ারা, আপেল খাওয়া শরীরকে শক্তি দেয় এবং রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গরম পানি ও হালকা খাবার শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখতে
সাহায্য করে।
এছাড়া খুসখুসে কাশি বাড়াতে পারে এমন খাবার এড়ানো জুরুরি। তেল মসলাযুক্ত খাবার,
ঠান্ডা বা বরফজাত পানীয়, চিপস, ফাস্টফুড এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার কফ ও কাশি
বাড়ায়। দুধ বা দই কিছু ক্ষেত্রে কফ গাঢ় করে কাশি বেশি বাড়াতে পারে। নিয়মিত
হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া খুসখুসে কাশি কমানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত আদা চা, লেবু চা,তুলসি পাতার রসের চা খুসখুসে কাশি কমাতে অত্যান্ত
কার্যকরী।
শিশু ও বয়স্কদের খুসখুসে কাশির আলাদা যত্ন
খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় শিশু ও বয়স্কদের জন্য আলাদা যত্ন
প্রয়োজন। শিশুদের ক্ষেত্রে খুসখুসে কাশি সহজে বাড়তে পারে কারণ তাদের শ্বাসনালী
সংবেদনশীল। ছোট শিশুকে গরম পানি বা তুলসী চা দেওয়া যেতে পারে তবে মাত্রা ছোট
রাখা জরুরি। ঘর আদ্র রাখা, ধুলো ময়লা কমানো এবং শিশু ঘুমানোর সময় বালিশ একটু
উঁচু রাখা সহায়ক। অতিরিক্ত ঠান্ডা বা মসলাযুক্ত খাবার এড়ানো উচিত। নিয়মিত
গারগোল বা ওষুধ ডাক্তার পরামর্শের দেওয়া যেতে পারে।
খুসখুসে কাশির ক্ষেত্রে বয়স্কদের শ্বাসনালী দুর্বল হওয়ায় কাশি দীর্ঘমেয়াদী
হতে পারে। গরম পানি, লবণ পানি এবং হালকা খাবার উপকারী। শীতকালে ঘর উষ্ণ রাখা ও
আদ্রতা বজায় রাখা জরুরী। ধূলিকণা, ধোয়া বা ধূমপান থেকে দূরে রাখা জরুরি। নিয়মিত
আদা চা,তুলসি পাতার চা ও গরম দুধে হলুদ মিশিয়ে খেলে খুসখুসে কালি দ্রুত ভালো হয়।
বয়স্কদের গলা ঢেকে রাখা উচিত।প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ঘরোয়া উপায় একসাথে ব্যবহার করা
ভালো।
শুষ্ক আবহাওয়া কাশি কমানোর কার্যকর টিপস
খুশখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় শুষ্ক আবহাওয়ায় বেশি কার্যকর। শুষ্ক
আবহাওয়ায় কাশি বেশি হয় কারণ গলার মিউকাস শুকিয়ে যায়। এই অবস্থায় গরম পানি,
হালকা চা বা তুলসীর রস খাওয়া উপকারী। ঘরে আদ্রতা বজায় রাখলে শ্বাসনালী রক্ষা
হয়। ধুলো, ময়লা ও ধোঁয়া এড়ানো রাতে বালিশ একটু উঁচু করে শোয়া কফ জমা কমায়।
নিয়মিত গরম পানি দিয়ে গাঁরগল করলে গলা আরাম পায় এবং খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি
দূর হয়।
শুষ্ক আবহাওয়ায় হালকা খাবার এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ ফলমূল খাওয়া ভালো। মধু, আদা বা
তুলসীর ব্যবহার কাশি উপশমের কার্যকর। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার এড়াতে হবে।
শীতকালে গলা ঢেকে রাখা এবং পর্যাপ্ত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শরীরকে উষ্ণ রাখা
কাশি কমাতে সাহায্য করে। এসব টিপস অনুসরণ করলে শুষ্ক আবহাওয়া কাশি সহজে
নিয়ন্ত্রণে থাকে। বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা
ভালো কাশি কমানোর জন্য।
কাশি দীর্ঘস্থায়ী হলে কখন ডাক্তার দেখাবেন
খুশখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় চেষ্টা করেও দীর্ঘস্থায়ী কাশি সারে না
এমন ক্ষেত্রে সতর্কতা সতর্ক থাকা জরুরী। কাাশি যদি কাশি তিন সপ্তাহ বা তার বেশি
সময় ধরে না কমে তবে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো উচিত। দীর্ঘস্থায়ী কাশি ফুসফুস বা
শ্বাসনালীর সংক্রমণ, অ্যাজমা বা অন্যান্য গুরুতর সমস্যা লক্ষণ হতে পারে। জ্বালা,
শ্বাসকষ্ট বা রক্তমিশ্রিত কফ থাকলেও দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। শিশু ও বয়স্কদের
ক্ষেত্রে কাশি দ্রুত বাড়লে বিলম্ব না করে ডাক্তার দেখানো জরুরী। একইভাবে জ্বর
সর্দি বা গলা ফোলার সাথে সাথে দীর্ঘ কাশি থাকলে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া উচিত।
সাধারণত ফুসফুস ও শ্বাসনালীর পরীক্ষা, রেডিওগ্রাফি বা রক্ত পরীক্ষা করে সমস্যার
সঠিক কারণ নির্ধারণ করেন। প্রয়োজনে ওষুধ বা থেরাপি দিয়ে কাশি কমানো হয়। নিজে
নিজে ওষুধ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলা
জরুরি। ডায়েট ও পানি নিয়মিত রাখা দরকার। ভবিষ্যতে সমস্যা পুনরায় দেখা দেওয়ার
ঝুঁকি কমে। ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি শরীরের জন্য ভালো কিন্তু অতিরিক্ত হলে তা
ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ঘুমের আগে পানি খাওয়ার নিয়ম কাশি কমানোর উপায়
খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় রাতে ঘুমের আগে কিছু নিয়ম মানলে কাশি
কমে। ঘুমের আগে গরম বা হালকা গরম পানি খেলে কফ নরম হয় এবং গলা আরাম পায়। পানি
ধীরে ধীরে ছোট ছোট ভাবে খাওয়া উচিত, একেবারে বেশি না। ঘুমের আগে পানি খাওয়া
শ্বাসনালী আদ্র রাখে এবং রাতে কাশি কমায়। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে তাপমাত্রায়
বেশি গরম না রাখায় নিরাপদ। নিয়মিত এই অভ্যাস কাশি কমাতে ও ঘুমের মান ভালো রাখতে
সাহায্য করে।
পানি খাওয়ার সময় খুব ঠান্ডা বা বরফযুক্ত পানি এডানো জরুরি, কারণ তা কফ ও কাশি
বাড়াতে পারে। রাতের খাবারের পরে অন্তত ২০-৩০ মিনিট পর পানি খাওয়া ভালো। ঘুমানোর
সময় বালুশ একটু উঁচু রাখলে কফ নিচে জমা হয় না। রাতে পর্যন্ত পানি খেলে গলার
শুষ্কতা দূর হয়। এভাবে পানি খাওয়া কাশি উপশম ও শ্বাসনালী সুস্থ রাখতে কার্যকর।
গরম চা বা মধু গলায় আরাম বাড়ায়।এসময় আদা,তুলসি পাতার রস ও মধু মিশিয়ে খেলে
খুসখুসে কাশি অনেকটা কমে যায়।
প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপাদান দিয়ে কাশি নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল
খুসখুসে বিরক্তকর কাশি দূর করার উপায় প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে খুব সহজে করা যায়
কাশি নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক উপাদান খুব কার্যকর। আদা, মধু, তুলসী, লেবু এবং গরম
পানি কফ নরম করতে সাহায্য করে। এই উপাদানগুলো কাশি কমায় এবং গলার আরাম
দেয়। দিনে ২-৩ এই উপাদান দিয়ে তৈরি রস বা চা খাওয়া উপকারী। শিশুর জন্য
সতর্কভাবে হালকা মাত্রায় ব্যবহার করা যায়। নিয়মিত ব্যবহার কাশি ধীরে ধীরে
কমায় এবংসর্দি প্রতিরোধেও সহায়ক।
হালকা গরম স্যুপ, ফলমূল ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বাড়ায়। ধুলো ময়লা, ধোঁয়া এবং ঠান্ডা পানীয় এড়ানো জরুরি। গরম পানি দিয়ে
গারগোল করলে গলার ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। রাতে বালিশ উচু রেখে ঘুমালে কফ জমা
কমায়। শুষ্ক বা ঠান্ডা আবহাওয়ায় এই প্রাকৃতিক কৌশল গুলি কাশি নিয়ন্ত্রণে
কার্যকর। নিয়মিত অভ্যাস করলে সুস্থ থাকে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সঠিক
নিয়মের প্রয়োজন। ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চললে দ্রুত খুসখুসে কাশি ভালো করা সম্ভাব।
শেষকথা:
খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায় সম্পর্কে সচেতন থাকা খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। ছোটখাটো সমস্যা মনে হলেও দীর্ঘদিন থাকলে ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
গলা আদ্র রাখা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে কাশি অনেকটাই কমে। সঠিক যত্ন নিলে
সহজেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আমার মনে হয় কাশির দীর্ঘদিন না সারলে বা অন্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা ঠিক নায়।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। সময় মত সঠিক ব্যবস্থা নিলে জটিলতা
এড়ানো যায়। নিজের ও পরিবারের সুস্থতার জন্য সচেতন থাকা সবচেয়ে জরুরী। কিন্তু
ঘরোয়া পদ্ধতি নিয়ম মেনে চললে কাশি কমানোর জন্য সহায়ক।

.webp)
.webp)
নাহার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url